নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেষ তিন কার্যদিবসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সার্বিকভাবে শেয়ারদর, লেনদেনসহ সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল গত সপ্তাহে। শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দরের সঙ্গে মূল্যসূচকও বেড়েছে। সপ্তাহের সার্বিক লেনদেন প্রায় ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বাজার-সংশ্নিষ্ট সবার মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, নানা ধরনের নেতিবাচক খবরের মধ্যেও গত সপ্তাহটি ভালো কেটেছে। যদিও সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে নিম্নমুখী ছিল দর। এমনকি রেকর্ড ২৯২টি বা মোটের ৭৫ শতাংশ শেয়ার ও ফান্ডের বাজারদর বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইসে নেমেছিল। শেষ তিন কার্যদিবসে ওই অবস্থা থেকে বের হয়ে এসেছে বাজার। শর্ত সাপেক্ষে চেক জমা দিয়েও শেয়ার কেনার সুযোগ দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে নির্দেশনা জারির খবর এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
সপ্তাহ শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ১২১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে এবং কমেছে ৪৬টির। দর অপরিবর্তিত বা ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল ২২২ শেয়ার ও ফান্ড। অবশ্য গত ৩১ অক্টোবর যেখানে ২৯২ শেয়ারের দর বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইসে নেমে এসেছিল, গত বৃহস্পতিবার তা ২৩১টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ শেষ তিন কার্যদিবসে ফ্লোর প্রাইস থেকে উঠে এসেছে ৬১ শেয়ার ও ফান্ড।
এদিকে বৃহৎ মূলধনি কিছু শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ওপর ভর করে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪১০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ৭০ পয়েন্টের বেশি সূচক কমার পর শেষ তিন কার্যদিবসে বেড়েছে ১০৩ পয়েন্ট। প্রধান সূচকটি বাড়লেও ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএস-৩০ এবং ডিএসইএস কিছুটা কমেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। দৈনিক গড়ে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫২ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। এর আগের সপ্তাহে এ বাজারে দৈনিক গড়ে ৭১৭ কোটি টাকারও কম মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।
ডিএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এ বাজারে সর্বাধিক ১১৪ শতাংশ দর বেড়েছে নতুন তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ দর বেড়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলসের। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এডিএন টেলিকমের দর বেড়েছে ২৪ শতাংশ।
Leave a Reply